বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায় সে সম্পর্কে আজ এই পোষ্টের মাধ্যমে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব।বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে (যেমন ডিপ্লোম্যাটিক বা অফিশিয়াল পাসপোর্টধারী হিসেবে) অনেক দেশে ভিসা ছাড়া বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় যাওয়া যায়।

বাংলাদেশ-থেকে-সরকারিভাবে-কোন-কোন-দেশে-যাওয়া-যায়
বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন দেশের সাথে চুক্তি করেছে, যার ফলে সরকারি/কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীরা ভিসা ছাড়া বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় যেতে পারেন।

পোস্ট সূচিপত্র : বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায়
সরকারিভাবে বিদেশ যেতে কত টাকা লাগে
কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
শিক্ষার জন্য সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায়
শ্রমিক হিসেবে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায়
চাকুরী প্রার্থী হিসেবে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায়
সরকারিভাবে বিদেশ যেতে কি কি কাগজপত্র লাগে
বিদেশ যাওয়ার পূর্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কি
শেষ কথা  বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে প্রবাস থেকে আশা রেমিটেন্স. তাই বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করা হয়.তার মধ্যে প্রধানত মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, ইউরোপ এবং অন্যান্য উন্নত দেশগুলোতে সরকারিভাবে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়। আপনি যদি সরকারি ভাবে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক হয়ে থাকেন তাহলে নিম্নে বর্ণিত যেকোনো দেশে যেতে পারবেন।যেমন;মধ্যপ্রাচ্যঃ সৌদি আরব, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান।এশিয়াঃমালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রুনাই।

ইউরোপঃ ইতালি, ফিনল্যান্ড, রোমানিয়া, পোল্যান্ড, সার্বিয়া।উন্নত দেশঃ জাপান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য। সরকারি ভাবে বিদেশ যেতে খরচ অনেক কম হয় কিন্তু বেসরকারি ভাবে গেলে আবার খরচ অনেক বেশি তাই সরকারিভাবে যেসব দেশে যাওয়া যায় এমন দেশের তালিকা নির্ণয় করা হলো। সৌদি আরব মালয়েশিয়া কাতার সংযুক্ত আরব আমিরাত লিবিয়া লেবানন ওমান কুয়েত সিঙ্গাপুর মালদ্বীপ ইরাক একটু বুকিং করিয়া চীন জাপান ডেনমার্ক মরিসাস ভারত কানাডা যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্র ফিনল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া ইতালি সুইজারল্যান্ড জর্ডান রোমানিয়া বাহরাইন।

সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায়

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মী নিয়োগ করার জন্য বেশ কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে, বোয়েসেল, বিএমইটি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, দক্ষিণ কোরিয়া ইপিএস প্রোগ্রাম, আমি প্রবাসী অ্যাপ ইত্যাদি। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারিভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মী পাঠানো হয়।


বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে বিদেশ যেতে আগ্রহীদের অবশ্যই সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিয়মিত আপডেট থাকতে হবে। বিভিন্ন দেশের জব সার্কুলার প্রকাশ করলে আবেদন করতে পারবেন। এজন্য অবশ্যই আপনাকে যোগ্য প্রার্থী হতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার যোগ্যতার ভিত্তিতে আপনাকে নির্বাচন করবে।


তবে দেশ অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করার প্রক্রিয়া ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন, দক্ষিণ কোরিয়া সরকারিভাবে যেতে আগ্রহী কর্মীদের লটারির মাধ্যমে এবং ভাষা পারদর্শী পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে থাকে। এরপর যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করে কাজের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়।

আরো পড়ুন: প্রবাসে প্রবাসীদের জন্য নিরাপত্তা তথ্য জানুন

সরকারি ভাবে বিদেশ যেতে কত টাকা লাগে

সরকারিভাবে বিদেশ যেতে আপনি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পারবেন কিন্তু মূলত জানা জরুরী সরকারি ভাবে কত টাকা খরচ হয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক সরকারি ভাবে বিদেশ যেতে কত টাকা লাগে। সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায় এটা জানা যেমন জরুরী তেমনি সরকারিভাবে বিদেশ যেতে খরচ কত পড়বে সেটাও জরুরী। সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য আনুমানিক ১ লক্ষ টাকা থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। তবে এই খরচ বিভিন্ন দেশের ভেদে কমবেশি হতে পারে। বেসরকারিভাবে বিদেশ ভ্রমণের চাইতে সরকারিভাবে বিদেশ ভ্রমণের খরচ অনেক কম।

কম খরচে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

আপনি যদি কম খরচে বিদেশ যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করে থাকেন তাহলে আপনি নিম্নে উল্লেখিত দেশগুলিতে যেতে পারবেন। ভারত ডেনমার্ক সুইজারল্যান্ড থাইল্যান্ড মালয়েশিয়া ওমান দুবাই। বিদেশের যাত্রা বরাবরই ব্যয়বহুল তবে সরকারিভাবে যেতে পারলে কিছুটা খরচ কম হয়। এছাড়া আপনি বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যেতে পারবেন। আর আপনি যদি বেসরকারিভাবে কম খরচে বিদেশ যেতে চান তাহলে উপরে উল্লেখিত দেশগুলোতে যেতে পারবেন।

শিক্ষার জন্য সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায়

বাংলাদেশ থেকে এখন অনেকেই উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে চাই, তাই সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায় সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরী। উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ সরকার বিরাট সুযোগ দিয়েছেন। আপনার যদি মেধা, ফলাফল ভালো হয় তাহলে আপনি সরকারীভাবে বিদেশে পড়ালেখার সুযোগ পাবেন। এটা শুধুমাত্র ভালো মেধা এবং ফলাফলের ভিত্তিতে স্কলারশিপ পেয়ে থাকে। তাই আপনার যদি মেধার ভিত্তিতে ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারেন তাহলে আপনিও পড়ালেখা করার জন্য সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

শ্রমিক হিসেবে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায়

বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার শ্রমিক বিদেশে কর্মরত আছেন আর কিভাবে সরকারি উপায়ে বিদেশ যেতে পেরেছেন সেই সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা অবশ্যই দরকার। আসুন জেনে নেই শ্রমিক হিসেবে সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায় । আপনারা যারা শ্রমিক হিসেবে সরকারিভাবে বিদেশ যেতে চান, তাদেরকে সেই দেশের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখতে হবে যে দেশের তারা যেতে ইচ্ছুক। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন সম্পন্ন করুন। বিভিন্ন দালাল চক্রের হাত থেকে বাঁচুন, এবং সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য অনলাইন আবেদন করুন। আমি প্রবাসী অ্যাপ এর মাধ্যমে সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য আবেদন করা যায়।

চাকুরী প্রার্থী হিসেবে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায়

আমাদের দেশে চাকরি যেমন সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঠিক তেমনি চাকরিপ্রার্থী হিসেবে সরকার ভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য লোকের অভাব নেই। বিদেশে চাকুরীর উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে জানতে হবে, কোন দেশে বিদেশি চাকরিজীবীদের নিয়োগ দিচ্ছে বা সার্কুলার প্রদান করেছে। সেই দেশের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে উক্ত চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এছাড়াও প্রতিবছর বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ যাওয়ার সুযোগ দিয়ে থাকে।


আপনি যদি একজন সরকারি চাকরিজীবী হয়ে থাকেন তাহলে, বাংলাদেশের সরকারের মাধ্যমে আপনি বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পাবেন। সেক্ষেত্রে আপনার কোন টাকা পয়সা খরচ হবে না, বরং বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পেলে আপনি লক্ষ লক্ষ টাকা পাবেন, সরকারের পক্ষ থেকে।

সরকারি ভাবে বিদেশ যেতে কি কি কাগজপত্র লাগে

সরকারিভাবে বিদেশ যেতে হলে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে কি কি কাগজপত্র আপনার প্রয়োজন হবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক সরকারি ভাবে বিদেশ যেতে কি কি কাগজপত্র লাগে।
পাসপোর্ট
পাসপোর্ট সাইজের ছবি
জাতীয় পরিচয় পত্র
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট
মেডিকেল রিপোর্ট
ভাষা দক্ষতার সার্টিফিকেট (যদি লাগে)। 

বিদেশ যাওয়ার পূর্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কি

বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার পূর্বে আপনাকে প্রয়োজনীয় অনেক পদক্ষেপ নিতে হবে যা আপনার বিদেশ ভবনকে সুন্দর ও সার্থক করে তুলবে । বিদেশ ভ্রমণের আগে অবশ্যই নিম্নে উল্লেখিত পদক্ষেপ গুলি অনুসরণ করুন।

বৈধ ও নিরাপদে বিদেশ ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আপনার গন্তব্য দেশের ভাষা শিখুন এবং প্রাসঙ্গিক কাজের দক্ষতা অর্জন করুন।
বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে লাভ-ক্ষতির হিসাব করুন।
আপনার পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখুন এবং ভিসা পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করুন।
চুক্তিটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন , বুঝুন এবং স্বাক্ষর করুন।
দেশ ছাড়ার আগে প্রতিটি নথির ৩-৪ কপি তৈরি করুন।
বিদেশ যাবার আগে দুইটি ব্যাংক একাউন্ট খুলুন।
সংশ্লিষ্ট ডেমো অফিসে আঙ্গুলের ছাপ দিন।
সমস্ত নিয়ম মেনে যাত্রা শুরু করুন।

শেষ কথা  বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

বাংলাদেশের জনসংখ্যার মধ্যে বেশিরভাগ প্রবাসী। প্রতিবছর হাজার হাজার শ্রমিক প্রবাসে পাড়ি জামাই জীবিকা নির্বাহের জন্য। তবে প্রবাসে পাড়ি জমানো সহজ কথা নয় অনেক ব্যয়বহুল একটি ব্যাপার। তবে আপনি যদি সরকারিভাবে বিদেশ যেতে চান তাহলে আপনার তুলনামূলক খরচ অনেক কম পড়বে। আজকের আর্টিকেলে আপনাদের সাথে যথা সম্ভব জানানোর চেষ্টা করলাম সরকারিভাবে কোন দেশে যেতে পারবেন এবং কত টাকা খরচ হবে ইত্যাদি সম্পর্কে।


প্রিয় পাঠক, কোন দেশের যাবার আগে অবশ্যই সব তথ্য জেনে থাকা ভালো। আশা করি আজকের আর্টিকেলটি করে আপনি আপনার প্রশ্নের চাহিদা অনুযায়ী উত্তর পেয়েছেন। এমন আরও তথ্যবহুল আর্টিকেল পড়ার জন্য নিয়মিত আমার ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
1 জন কমেন্ট করেছেন ইতোমধ্যে
  • anytipsatoz✅
    anytipsatoz✅ ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ এ ১০:১৫ PM

    ভাল হয়েছে

মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অ্যনি টিপস এটোজ নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url