২০২৬ সালের কোরবানির ঈদ কবে

২০২৬ সালের কোরবানি ঈদ কবে হবে তা এই পোষ্টের মাধ্যমে আজকে আমরা জানতে পারবো কোরবানি ঈদ মুসলিম বিশ্বে ঈদুল আযহা নামে পরিচিত এটি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য অন্যতম প্রধান ও পবিত্র ধর্মীয় উৎসব এই দিনটি বিশ্বজুড়ে মুসলমানেরা অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও আনন্দের সাথে উদযাপন করে সুতরাং আসুন আমরা জেনে নেই ২০২৬ সালের কোরবানি ঈদ কবে হবে। 

সালের-কোরবানির-ঈদ-কবে


ঈদ মানে খুশি! ঈদ মানে আনন্দ! মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ঈদ একটি পবিত্রতম দিন। ঈদুল আযহার দিনে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়ে থাকে। আরবি বর্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী এবং ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মুসলমানদের জন্য প্রতি বছরে দুইটি ঈদ আসে একটি হল ঈদুল ফিতর অন্যটি হলো ঈদুল আযহা। মাহে রমজানের পরবর্তীতে যে ঈদ আসে সেটি হল ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল ফিতরের ৭০ দিন পরে আরবি জিলহজ্ব মাসে দশ দিন যে দিনটি আসে সেটি হল ঈদুল আযহা। জিলহজ্ব মাসের ১১ তম দিনটি হলো পবিত্র ঈদুল আযহা।

পেজ সূচিপত্র:২০২৬ সালের কোরবানির ঈদ কবে

কোরবানি ঈদের ইতিহাস
কোরবানি ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম
কোরবানি ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ত
কোরবানি ঈদের নামাজ কয় রাকাত
কোরবানি ঈদ কি ধরনের নামাজ
আরবি কোন মাসে কোরবানি ঈদ 
ইংরেজি কোন মাসে কোরবানি ঈদ
কোরবানির মাংস ভাগ করার নিয়ম
ইসলামে কোরবানি ঈদের গুরুত্ব
কুরবানী কাদের উপর ফরজ
শেষ কথা    লেখক এর মন্তব্য

২০২৬ সালের কোরবানির ঈদ কবে

আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক ২০২৬ সালের কোরবানি ঈদ কবে,ঈদুল আযহাকে আমরা সাধারণত কুরবানির ঈদ বলে থাকি। কেননা এই ঈদে পশু কুরবানী করা হয় বিধায় অনেকেই এই দিনকে কুরবানীর দিন বা ঈদকে কোরবানির ঈদ বলে থাকে থাকেন। সৌদি আরবের একদিন পরেই বাংলাদেশের পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত হবে। যা বিগত বছর গুলোতে হয়ে আসছে। এ বছরেও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে ধারণা করা যাচ্ছে যদিও পবিত্র ঈদুল আযহা চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে কিন্তু চন্দ্রের দিক থেকে সৌদি আরব আমাদের থেকে মোটামুটি ২৩ ঘন্টায় এগিয়ে থাকায় সৌদি আরবের আকাশে বাংলাদেশের থেকে একদিন আগেই চাঁদ লক্ষ করা যায়।

সৌদি আরবের সাথে ঈদুল আযহা পালিত হওয়ার কোন হাদিস বা বিধান নেই। কুরআন বা হাদিসে উল্লেখিত রয়েছে চাঁদ দেখার উপর পবিত্র ঈদুল আযহা কবে পালিত পালিত হবে তা নির্ভর করবে। কিন্তু বরাবরই আমরা লক্ষ্য করে দেখেছি যে সৌদি আরব চন্দ্রের দিক থেকে যেহেতু আমাদের দেশ থেকে একদিন এগিয়ে থাকায় সৌদি আরবে বাংলাদেশের একদিন আগেই সেখানে চাঁদ লক্ষ্য করা যায় এবং পবিত্র ঈদুল আযহার পালিত হয়। আরবি বর্ষপঞ্জিকে অনুযায়ী জিলহজ্ব মাসের ১১ তারিখে পবিত্র ঈদ আযহা পালিত হবে সে অনুযায়ী ইংরেজি বর্ষপঞ্জিকা মতে জুন মাসের ২৬তারিখ অথবা ২৭ তারিখ পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত হবে। তবে সৌদি আরবে সম্ভাব্য সময়সূচী অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল আযহা বাংলাদেশের ৭ জুন তারিখ পালিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুতরাং এতক্ষণে আমরা জেনে গেছি ২০২৬ সালের কোরবানি ঈদ কবে এবার আমরা কোরবানি ঈদের ইতিহাস সম্পর্কে জানবো। 

কোরবানি ঈদের ইতিহাস

কোরবানির ঈদ ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব, যা ত্যাগ ও আনুগত্যের মহান শিক্ষা বহন করে। এই ঈদের ইতিহাস হজরত ইবরাহিম (আ.)–এর জীবনের এক স্মরণীয় ঘটনার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। আল্লাহর নির্দেশে তিনি তাঁর সবচেয়ে প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)–কে কোরবানি করার জন্য প্রস্তুত হন, যা ছিল তাঁর ঈমান ও বিশ্বাসের কঠিন পরীক্ষা। ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.) উভয়েই আল্লাহর আদেশে নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করেন। শেষ মুহূর্তে আল্লাহ তায়ালা ইসমাইল (আ.)–এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি করার আদেশ দেন। এই ঘটনার মাধ্যমে আল্লাহ মানবজাতিকে ত্যাগ, ধৈর্য ও পূর্ণ আনুগত্যের শিক্ষা দেন। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে মুসলমানরা কোরবানির ঈদ পালন করে থাকেন। এ দিনে সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানি করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। কোরবানির মাধ্যমে সামাজিকভাবে গরিব-দুঃখীদের মাঝে মাংস বণ্টন করা হয়। সব মিলিয়ে কোরবানির ঈদ মুসলিম সমাজে ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে।

আরো পড়ুন: জিলহজ্ব মাসের ১০ দিনের আমল ও ফজিলত

কোরবানি ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম

কোরবানির ঈদের নামাজ মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এই নামাজ সাধারণত ঈদের দিন সকালে সূর্য ওঠার কিছু সময় পর আদায় করা হয়। ঈদের নামাজ দুই রাকাত এবং তা জামাতে আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। নামাজের শুরুতে তাকবিরে তাহরিমা বলে হাত বাঁধতে হয়। এরপর অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির পড়া হয়, প্রথম রাকাতে তিনটি এবং দ্বিতীয় রাকাতে তিনটি। প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার পর অন্য একটি সূরা পড়তে হয়। রুকু ও সিজদা সাধারণ নামাজের মতোই আদায় করা হয়। দ্বিতীয় রাকাত শেষে তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া পড়ে সালাম ফিরাতে হয়। নামাজ শেষ হলে ইমাম খুতবা প্রদান করেন, যা মনোযোগ দিয়ে শোনা সুন্নত। ঈদের নামাজ মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতি জাগ্রত করে।

কোরবানি ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ত


কোরবানি-ঈদের-নামাজ-পড়ার-নিয়ত


কোরবানি ঈদের নামাজ আদায়ের আগে মনে মনে নিয়ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ত বলতে অন্তরের ইচ্ছা ও সংকল্পকে বোঝায়, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়। ঈদের নামাজের জন্য মুখে উচ্চারণ করা ফরজ নয়, তবে চাইলে বলা যেতে পারে। নিয়ত করার সময় মনে রাখতে হয় যে এটি কোরবানি ঈদের দুই রাকাত নামাজ। নামাজটি জামাতে আদায় করা হচ্ছে এবং ইমামের অনুসরণ করা হচ্ছে—এ বিষয়টিও নিয়তে অন্তর্ভুক্ত থাকে। নিয়তে আল্লাহর জন্য ইবাদত করার উদ্দেশ্য স্পষ্ট থাকতে হয়। পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য নিয়তের মূল বিষয় একই থাকে। ঈদের নামাজের নিয়ত সাধারণ নামাজের নিয়তের মতোই সহজ ও সংক্ষিপ্ত। খালিস নিয়ত নামাজকে কবুল হওয়ার পথে সহায়ক হয়। সঠিক নিয়তের মাধ্যমে ঈদের নামাজ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে।


এছাড়াও কোরবানি ঈদের আরবি নিয়ত হলো: "নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা'আলা রাকাআতাইন সালাতিল ঈদিল আযহা মাআ সিাত্তাতিত তাকবীরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তা'আলা ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা ঝিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার"। এর অর্থ, আমি ঈদুল আযহার ওয়াজিব দুই রাকাত নামাজ অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য আদায় করার নিয়ত করছি।

কোরবানি ঈদের নামাজ কয় রাকাত

কোরবানি ঈদের নামাজ মোট দুই রাকাত হয়ে থাকে। এই নামাজটি মুসলমানদের জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা হিসেবে আদায় করা হয়। ঈদের নামাজ সাধারণত বড় জামাতে আদায় করা হয়। দুই রাকাত নামাজ হলেও এতে অতিরিক্ত তাকবির রয়েছে, যা একে অন্যান্য নামাজ থেকে আলাদা করে। প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমার পর তিনটি অতিরিক্ত তাকবির বলা হয়। দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের আগে আরও তিনটি অতিরিক্ত তাকবির পড়া হয়। এই অতিরিক্ত তাকবিরগুলো ঈদের নামাজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। রুকু, সিজদা ও অন্যান্য অংশ সাধারণ নামাজের মতোই আদায় করা হয়। দুই রাকাত শেষ করে সালাম ফিরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন হয়। এভাবে দুই রাকাত ঈদের নামাজ মুসলমানদের ঈদের আনন্দ ও ইবাদতের পরিপূর্ণতা প্রকাশ করে।

কোরবানি ঈদ কি ধরনের নামাজ

আমরা অনেকেই ২০২৬ সালের কোরবানি ঈদ কবে হবে এইসব বিষয় নিয়ে গুগলে সার্চ করি, কিন্তু সেই সাথে আমাদের জানা উচিত কোরবানি ঈদ কি ধরনের নামাজ আমরা এই পোষ্টের মাধ্যমে কোরবানির কি ধরনের নামাজ সে সম্পর্কে জানতে পারব । কোরবানি ঈদের নামাজ হলো এক বিশেষ ধরনের সুন্নাত নামাজ, যা ঈদুল আযহার দিন সকালে ঈদগাহে আদায় করা হয়; এটি দুই রাকাত, যা অন্যান্য ফরজ নামাজের চেয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে পড়া হয় (যেমন অতিরিক্ত তাকবির) এবং নামাজের পর খুতবা পাঠ করা হয়, যা আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও ত্যাগ স্বীকারের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়, যা হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে এবং এটি কুরবানীর প্রস্তুতির আগে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ত্যাগের চেতনাকে জাগিয়ে তোলে।জিলহজ মাসের পাঁচ দিন তাকবিরে তাশরিক আদায় করতে হয়, তাকবিরে তাশরিক হলো-আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’

আরো পড়ুন: কোরবানির পশু জবাই করার দোয়া

আরবি কোন মাসে কোরবানি ঈদ 

কোরবানি ঈদ, যা ঈদুল আযহা নামেও পরিচিত, আরবি হিজরি ক্যালেন্ডারের সর্বশেষ মাস যিলহজ মাসের ১০ তারিখে পালিত হয়। এটি হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর আল্লাহর নির্দেশে নিজ পুত্র ইসমাঈল (আঃ)-কে কোরবানি করার প্রস্তুতির স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আল্লাহ তাঁর অগাধ বিশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়ে ইসমাঈল (আঃ)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি করার ব্যবস্থা করেন। এই পবিত্র দিনে, বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা পশু কোরবানি করে, যা হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর আত্মত্যাগের প্রতীক। কোরবানি করা পশুর মাংস তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়: একটি নিজের পরিবারের জন্য, একটি বন্ধু-প্রতিবেশীর জন্য এবং বাকি অংশ গরিব ও অভাবী মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এই উৎসব ত্যাগের মানসিকতা ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের শিক্ষা দেয়, যা হজ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে দৃঢ় করে। ঈদের দিন সকালে বিশেষ নামাজ আদায় করা হয় এবং সারা দিন আনন্দ ও খুশির সঙ্গে কাটানো হয়। এটি শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং সাম্য ও ভালোবাসার এক মহামিলন।

ইংরেজি কোন মাসে কোরবানি ঈদ

আমরা ২০২৬ সালের কোরবানি ঈদ কবে এটা ইংরেজি মাসের কোন দিন আরবি মাসের কোন দিন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে জানার চেষ্টা করি, আসুন এবার যাক ইংরেজি কোন মাসে কোরবানি ঈদ । কোরবানির ঈদ বা ঈদুল আযহা ইংরেজি ক্যালেন্ডারে নির্দিষ্ট কোনো দিনে পড়ে না। কারণ এটি ইসলামী চন্দ্র ক্যালেন্ডারের ওপর নির্ভর করে, যা সৌর ক্যালেন্ডারের চেয়ে প্রায় ১১ দিন ছোট। ফলে প্রতি বছর ইংরেজি ক্যালেন্ডারে কোরবানির ঈদের তারিখ পরিবর্তিত হয়। সাধারণত এটি জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে আসে, চাঁদ দেখা অনুযায়ী। ঈদুল আযহা জিলহজ মাসের ১০ তারিখে উদযাপিত হয়। এই মাসে হজ্বের মূল ইবাদতও সম্পন্ন হয়। মুসলমানরা এই দিনে নামাজ আদায় করেন এবং পশু কোরবানি করেন। কোরবানির মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায়দের সাহায্য করা হয়। পরিবার ও সমাজে ঈদের আনন্দ ও ঐক্য বৃদ্ধি পায়। তাই ইংরেজি ক্যালেন্ডারে কোরবানির ঈদের মাস প্রতি বছর পরিবর্তিত হয়। এটি ইসলামী চন্দ্র ক্যালেন্ডারের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখায়।

কোরবানির মাংস ভাগ করার নিয়ম

কোরবানির মাংস ভাগ করার নিয়ম ইসলামিক শরীয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী পালন করা হয়। সাধারণত মাংসকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথম ভাগ পরিবারের জন্য রাখা হয়, যাতে তারা খেতে পারে। দ্বিতীয় ভাগ আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তৃতীয় ভাগ দারিদ্র ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করা উচিত। মাংস ভাগ করার সময় খেয়াল রাখতে হয় যেন সবাই উপযুক্তভাবে মাংস পায়। মাংস বেশি সংরক্ষণ করা না হলে তাজা অবস্থায় বিতরণ করা উত্তম। কোরবানির মাংস বিতরণে সামাজিক সহমর্মিতা ও মানবিক দায়বদ্ধতা প্রকাশ পায়। বয়স ও সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই ভাগে অংশ নিতে পারে। মাংস বিতরণ শিশুদের শিক্ষা দেয় অন্যদের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে। এই নিয়ম অনুসরণ করে কোরবানির ঈদ সম্পূর্ণ হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।

ইসলামে কোরবানি ঈদের গুরুত্ব



ইসলামে-কোরবানি-ঈদের-গুরুত্ব

মুমিন বান্দার জীবনে কোরবানির গুরুত্ব সীমাহীন।আর মুসলমানদের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ উৎসব ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ। পবিত্র কুরআনে কুরবানীর বদলে ‘কুরবান’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। হাদীছেও ‘কুরবানী’ শব্দটি ব্যবহৃত না হয়ে এর পরিবর্তে ‘উযহিয়াহ’ ও ‘যাহিয়া’ প্রভৃতি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। আর এজন্যই কুরবানীর ঈদকে ‘ঈদুল আযহা’ বলা হয়। আর আযহা শব্দটি আরবীতে ‘কুরবান, ফারসী বা ঊর্দূতে ‘কুরবানী’ রুপে পরিচিত হয়েছে, যার অর্থ ‘নৈকট্য’। পারিভাষিক অর্থে ‘কুরবানী’ ঐ মাধ্যমকে বলা হয়, যার দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য হাছিল হয়। প্রচলিত অর্থে, ঈদুল আযহার দিন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শারঈ তরীকায় যে পশু যবহ করা হয়, তাকে ‘কুরবানী’ বলা হয়।আল্লাহর সাথে প্রেমবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য তিনি কোরবানি চান আর এ কুরবানির অর্থ কেবল পশু জবেহ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এ কুরবানি কারো জন্য নিজ প্রাণের কুরবানিও হতে পারে আবার কারো নিজ পশুত্বের কুরবানিও হতে পারে। আমরা যদি মনের পশুকে কুরবানি করতে পারি তাহলেই আমরা আল্লাহতায়ালার প্রিয়দের অন্তর্ভূক্ত হতে পারব। এছাড়া বাহ্যিকভাবে যত বড় পশুই কুরবানি করি না কেন তা তার কাছে মূল্য রাখে না। যেভাবে পবিত্র কুুরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘এগুলোর মাংস বা এদের রক্ত কখনো আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, বরং তার কাছে তোমাদের পক্ষ থেকে তাকওয়া পৌঁছে’ (সুরা হজ, আয়াত : ৩৭)।

 সকালে রক্তিম সূর্য উপরে ওঠার সময়ে ‘কুরবানী’ করা হয় বলে এই দিনটিকে ‘উয়াওমুল আযহা’ বলা হয়ে থাকে। যদিও কুরবানী সারাদিন ও পরের দুদিন করা য়ায়। আর কোরবানির শাব্দিক অর্থ ত্যাগ। জিলহজ্ব মাসের দশ তারিখে পরম ত্যাগের নির্দেশনা স্বরূপ বিশ্ব মুসলিম মহাসমারোহে হজের অন্যতম অংশ পশু জবাইয়ের মাধ্যমে কোরবানি/ ঈদুল আযহা উৎসব পালন করে। সুতরাং ত্যাগের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে মুসলমান জাতি যে উৎসবে মিলিত হয় তাই ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদ। কোরবানি মুসলিম জাতির একটি ঐতিহ্য হওয়ায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। এ কারণেই রাসুল (সা) সব সময় কোরবানি করেছেন। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি বর্জনকারী ব্যক্তির প্রতি তিনি সতর্কবানী উচ্চারণ করেন। রাসুল (সা) বলেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না সে যেন আমাদের ঈদগাঁয়ে না আসে। 

আরো পড়ুনঃ মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি জায়েজ কিনা

কুরবানী কাদের উপর ফরজ

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারে না আসে।’ (মুসনাদে আহমদ, ইবনু মাজাহ ৩৫১৬)। আমাদের সমাজে অনেকেই আছে যারা জানেনা কোরবানি কার উপর ফরজ। কোরবানি করা আদৌ ফরজ নাকি সুন্নত নাকি ওয়াজিব। তাই অনেকেই আছে জানতে চাই কোরবানি কার উপর ফরজ বা কোরবানি কাদের উপর ফরজ তাদের জন্য এই পোস্টটি উপকারী কারণ এই পোস্টে আমরা আলোচনা করব কোরবানি কার উপর ফরজ - কোরবানি কাদের উপর ফরজ।কুরবানী ইসলামে নির্দিষ্ট কিছু মুসলমানের ওপর ফরজ। এটি ফরজ মুআক্কাদা, অর্থাৎ অত্যন্ত সুন্নত ও প্রায় ফরজ সমান গুরুত্বসম্পন্ন। কুরবানী মূলত সেই ব্যক্তির ওপর ফরজ, যিনি মুসলিম, পূর্ণবয়সী এবং সম্পদবান। সম্পদবান বলতে বোঝায় যে, তার কাছে কুরবানী দেওয়ার যোগ্য সম্পদ রয়েছে। যারা দরিদ্র বা স্বল্প সম্পদশালী, তাদের ওপর কুরবানী ফরজ নয়। এই ফরজ মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও ত্যাগের শিক্ষা দেয়। এটি জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পালন করা হয়। কুরবানী দেওয়ার মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তা করা হয়। সম্পদবান ব্যক্তি একাধিক কোরবানী দিতে পারেন, তবে কমপক্ষে একটি দেওয়া আবশ্যক। কুরবানী ঈদের নিয়ম অনুযায়ী করা মুসলিমদের ধর্মীয় কর্তব্য।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের উপার্জিত হালাল মালের কিছু অংশ এবং আমি যা তোমাদের জন্য যমীন হ’তে বের করেছি তার অংশ ব্যয় কর’ (বাক্বারাহ ২৬৭)। আমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ মানবতার সেবায় ব্যয় করতে হবে। দরিদ্র মানুষের সহযোগিতায় সরকারের পাশাপাশি সকল বিত্তশালী লোককে এগিয়ে আসতে হবে। সারা বছর, সারা জীবন সাধ্যমত আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের কথা বিবেচনা করে মানুষকে সাহায্য করতে হবে। চিত্ত আর বিত্তের মিল ঘটানোর জন্যই আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বারবার মানুষকে আহবান করেছেন।

শেষ কথা   ২০২৬ সালের কোরবানির ঈদ কবে

আমাদের এই পোষ্টের আলোচনার বিষয় ছিল ২০২৬ সালের কোরবানি ঈদ কবে, ২০২৬ সালের কোরবানি ঈদ ঈদুল ফিতরের ৭০ দিন পরে আরবি জিলহজ্ব মাসে দশ দিন যে দিনটি আসে সেটি হল ঈদুল আযহা। জিলহজ্ব মাসের ১১ তম দিনটি হলো পবিত্র ঈদুল আযহা।

সুতরাং আমরা যেন নিছক লৌকিকতা, আত্মম্ভরিতা, বাহাদুরি ও প্রতিযোগিতামূলক রক্তক্ষরণ ও গোশত ভক্ষণ করে মহান ঈদুল আজহার তাৎপর্য ও শিক্ষাকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত না করি। ইবরাহীমী ঈমান ও ইসমাঈলী আত্মত্যাগের উত্থান যদি আবার জাগ্রত হয়, তবে আধুনিক জাহেলিয়াতের গাঢ় তমিশ্রা ভেদ করে পুনরায় মানবতার বিজয় নিশান উড্ডীন হবে। সমাজে শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরে আসবে। তাই কুরবানীর পশুর গলায় ছুরি দেওয়ার পূর্বে নিজেদের মধ্যে লুক্কায়িত পশুত্বের গলায় ছুরি দিতে হবে। মহান আল্লাহর দরবারে আত্মসমর্পণকারী ও আত্মত্যাগী হ’তে হবে। তাকওয়া ও আল্লাহভীতি অর্জনের মাধ্যমে প্রকৃত মুমিন বা মুত্তাকী হ’তে হবে। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা এটাই, হে আল্লাহ! আমাদের এ কোরবানি তুমি গ্রহণ করো আর আমাদের আত্মাকে পবিত্র করো।আর আমাদের ছালাত, কুরবানী, জীবন-মরণ সবকিছু আল্লাহর জন্যই উৎসর্গ হোক, ঈদুল আযহায় বিধাতার নিকট এই থাকুক প্রার্থনা। এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনাদেরকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে যে ২০২৬ সালের কোরবানি ঈদ কবে হবে, কোরবানি ঈদের গুরুত্ব কতটুকু,  কোরবানি কি ধরনের নামাজ,  ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আসন্ন কোরবানি ঈদের ত্যাগের মহিমায় ভরে উঠুক আপনাদের জীবন সে পর্যন্ত ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
1 জন কমেন্ট করেছেন ইতোমধ্যে
  • anytipsatoz✅
    anytipsatoz✅ ২ জানুয়ারি, ২০২৬ এ ৬:৩৯ PM

    good

মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অ্যনি টিপস এটোজ নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url