লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও গুরুত্ব ২০২৬
লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই বলতে হয়,লাইলাতুল কদর অর্থাৎ শবে কদর রমজান মাসের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময় একটি
রাত । যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত, বরকতময় এই রাতে
পবিত্র কুরআন নাযিল হয়েছে ।
আল্লাহ তাআলা এ রাতের ব্যাপারে বলেন কদর রজনী সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সেই রজনীতে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতরণ করেন প্রত্যেক কাজে তাদের রবের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, সেই রজনী সুবহে সাদিক উদিত হওয়া পর্যন্ত। সূরা কদর (৯৭) : ৩-৫
পেজ সূচিপত্র: লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও গুরুত্ব ২০২৬
লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও গুরুত্ব ২০২৬
লাইলাতুল কদর কুরআন নাযিলের রাত
লাইলাতুল কদরের রাত্রিতে নামাজ ও আমল নিয়ম
লাইলাতুল কদর দোয়া কবুল হওয়ার রাত
লাইলাতুল কদর রাত্রে ফেরেশতাদের আগমন
লাইলাতুল কদর গুনাহ মাফের রাত
ভাগ্য নির্ধারণের রাত লাইলাতুল কদর
লাইলাতুল কদর নির্ধারণ করা যায় যে নিয়মে
লাইলাতুল কদরের নামকরণ
লাইলাতুল কদর রাত্রির আলামত
লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও গুরুত্ব ২০২৬
লাইলাতুল কদর অর্থাৎ‘শবে কদর’ কথাটি ফারসি। শব মানে রাত বা রজনী আর কদর মানে
সম্মান, মর্যাদা, গুণাগুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। তাই এই রাতটি মুসলমানদের
জন্য ভাগ্য রজনী হিসেবে সম্মানিত।শবে কদর অর্থ হলো মর্যাদাপূর্ণ রাত বা
ভাগ্যরজনী। শবে কদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত। লাইলাতুল কদরের
রাত হচ্ছে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত। পবিত্র কুরআনুল কারিম নাযিলের মাধ্যমে
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই রাতকে হাজারের মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ উত্তম ও মহা সম্মানিত
রাত হিসেবে আমারদের জন্য দান করেছেন। প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ দশকের রাতগুলোর
মধ্যে কোনো এক বিজোড় রাত হলো ভাগ্য নির্ধারণ বা লাইলাতুল কদরের রাত।
পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
‘শবে
বরাত’ ও শবে বরাতের হাদিসগুলোর বর্ণনা নিয়ে হাদিস বিশেষজ্ঞ ও ফকিহদের মধ্যে যে
সংশয় রয়েছে। লাইলাতুল কদরের ব্যাপারে তার কোনোই অবকাশ নেই। পবিত্র কুরআন,
নির্ভরযোগ্য হাদিস ও রাসূলুল্লাহ সা:-এর লাইলাতুল কদরের জন্য গৃহীত কর্মতৎপরতা
লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।এ সম্মানিত রজনীর গুরুত্ব সম্পর্কে
মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি এ কুরআনকে কদরের রাতে নাজিল করেছি। তুমি কি জানো কদরের
রাত কী? কদরের রাত হাজার মাস থেতেও উত্তম ও কল্যাণময়’ (সূরা আল কদর : ১-৩)। এই
রাত কোন মাসে ? এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘রমজান এমন মাস যাতে কুরআন নাজিল
হয়েছে’ (সূরা বাকারা : ১৮৫)।
লাইলাতুল কদর রাত রমজানের কোন তারিখে? রাসূলুল্লাহ সা: একটি রহস্যময় কারণে
তারিখটি সুনির্দিষ্ট করেননি। ইমাম বুখারি, ইমাম মুসলিম, ইমাম আহমদ ও ইমাম তিরমিজি
কর্তৃক বর্র্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে- হজরত আয়েশা রা: বর্ণনা করেছেন, নবী করিম সা:
বলেছেন, ‘কদরের রাতকে রমজানের শেষ দশ রাতের কোন বেজোড় রাতে খোঁজ করো।’এ রাত
হাজার মাস থেকে উত্তম ও কল্যাণময় (কুরআন)। এ রাতেই পবিত্র কুরআন নাজিল করা হয়েছে
(কুরআন)। এ রাতে ফেরেশতা নাজিল হয় এবং আবেদ বান্দাহদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে।
ফজর পর্যন্ত এ রাতে পুরোপুরি শান্তি ও নিরাপত্তার (কুরআন)। লাইলাতুল কদর রাতে
প্রত্যেকটি ব্যাপারে অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত ও সুদৃঢ় ফায়সালা জারি করা হয় (কুরাআন)।
এ রাতে ইবাদতে মশগুল বান্দাহদের জন্য অবতরণকৃত ফেরেশতারা দোয়া করেন (হাদিস)।
আরো পড়ুনঃ শবে বরাত সম্পর্কে হাদিস ও ইতিহাস
লাইলাতুল কদর কুরআন নাযিলের রাত
লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও গুরুত্ব ২০২৬ সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে আমাদেরকে অবশ্যই
মনে রাখতে হবে যে পবিত্র এই রাতেই কুরআন নাযিল হয়েছিল সুতরাং এই রাত্রি যে
মহামান্বিত একটি রাত্রি সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না রমযানের কদর রজনীতে আল্লাহ
তাআলা কুরআনে কারীম নাযিল করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন اِنَّاۤ اَنْزَلْنٰهُ فِیْ
لَیْلَةِ الْقَدْرِ. নিশ্চয়ই আমি কদর রজনীতে কুরআন অবতীর্ণ করেছি। সূরা কদর (৯৭)
: ১ আরো ইরশাদ হয়েছে اِنَّاۤ اَنْزَلْنٰهُ فِیْ لَیْلَةٍ مُّبٰرَكَةٍ اِنَّا
كُنَّا مُنْذِرِیْنَ. আমি এ (কিতাব) অবতীর্ণ করেছি বরকতপূর্ণ রজনীতে, বস্তুত আমি
সতর্ককারী। সূরা দুখান (৪৪) : ৩ রমজান মাস পবিত্র কুরআন নাযিলের মাস। শবে কদর
কুরআন নাযিলের রাত।
এ রাতেই প্রথম পবিত্র মক্কা মুকাররমার হেরা পর্বতের গুহায়
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের সরদার হজরত জিবরাইল আলাইহিস
সালামের মাধ্যমে রাহমতুল্লিল আলামিন প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি
মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিল করেন।এ কারণে আল্লাহ তায়ালা এ রাতের মর্যাদা বাড়িয়ে
দিয়েছেন। এ রাতে মহান আল্লাহ উম্মতে মুহাম্মাদিকে হাজার মাসের ইবাদত-বন্দেগি ও
আমলের সমান সাওয়াব দান করে। কুরআনুল কারিমের অন্য স্থানে এ রাতটিকে বরকতময় রাত
বলে উল্লেখ করা হয়েছে।কুরআন নাযিলের কারণে মর্যাদার এ রাতের কথা উল্লেখ করার পর
যে মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে সে মাসের কথাও আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে উল্লেখ
করেছেন এভাবে- আল্লাহ তায়ালা বলেন: ‘রমজান মাস! এমন একটি মাস যে মাসে কোরআন নাযিল
হয়েছে মানবের মুক্তির দিশারি ও হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনরূপে। ’ (সুরা-২ আল
বাকারা, আয়াত: ১৮৫)।
লাইলাতুল কদরের রাত্রিতে নামাজ ও আমল নিয়ম
পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাত্রিতে ন্যূনতম আট রাকাত থেকে যত সম্ভব পড়া যেতে পারে। এ জন্য সাধারণ সুন্নতের নিয়মে ‘দুই রাকাত নফল পড়ছি’ এ নিয়তে নামাজ শুরু করে শেষ করতে হবে। এ জন্য সূরা ফাতেহার সাথে আপনার জানা যেকোনো সূরা মেলালেই চলবে। বাজারে প্রচলিত কিছু বইতে ৩৩ বার সূরা আল কদর, ৩৩ বার ইখলাস ইত্যাদি উল্লেখ করে অহেতুক জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে। হজরত আশ্রাফ আলী থানবি র:, মাওলানা ইউসুফ ইসলাহী র: এবং এ পর্যায়ের বরেণ্য ফকিহরা এগুলো জরুরি মনে করেন না। এ ছাড়া সালাতুল তওবা, সালাতুল হাজত, সালাতুল তাসবিহ নামাজও আপনি পড়তে পারেন। এছাড়াও হাদিসে যে দোয়া ও জিকিরের অধিক ফজিলতের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো থেকে কয়েকটি নির্বাচিত করে অর্থ বুঝে বারবার পড়া যেতে পারে।
ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) ও দরুদ আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়। কমপক্ষে ১০০
বার ইস্তেগফার ও ১০০ বার দরুদ পড়া যেতে পারে। হজরত আয়েশা রা: বলেন- আমি
রাসূলুল্লাহ সা:-কে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ, যদি কোনো প্রকারে আমি জানতে পারি
রাতটি লাইলাতুল কদর তাহলে কী দোয়া করব? জবাবে নবী সা: বলেন, এই দোয়া পড়বে-
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন কারিমুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’ অর্থাৎ ‘হে
আল্লাহ! তুমি বড়ই মাফ করনেওয়ালা এবং বড়ই অনুগ্রহশীল। মাফ করে দেয়াই তুমি পছন্দ
করো। অতএব, তুমি আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দাও।’ হজরত আয়েশা রা:-কে শেখানো দোয়া
আমরা আবেগের সাথে বারবার পড়ব। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ,مَنْ قَامَ لَيْلَةَ القَدْرِ إِيْمَانًا
وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ، وَمَنْ صَامَ رَمَضَانَ
إِيْمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ‘যে ব্যক্তি
ঈমানের সাথে এবং নেকীর আশায় লায়লাতুল ক্বদরে ছালাতে রত থাকবে তার পূর্বের গুনাহ
মাফ করে দেয়া হবে’।
লাইলাতুল কদর দোয়া কবুল হওয়ার রাত
লাইলাতুল কদর দোয়া কবুল হওয়ার এক মহিমান্বিত রাত, যা আল্লাহ তাআলা উম্মতে
মুহাম্মদীকে বিশেষভাবে দান করেছেন। এই রাত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম, তাই
এর ফজিলত অপরিসীম। পবিত্র কুরআন এই বরকতময় রাতেই নাযিল হয়েছে, যা এ রাতের
গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। এ রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়ার প্রতি বিশেষ
দৃষ্টি দেন এবং আন্তরিকভাবে করা দোয়া কবুল করেন।লাইলাতুল কদরে ফেরেশতাগণ ও রূহ
(জিবরাইল আ.) আল্লাহর নির্দেশে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং রহমত নিয়ে আসেন।
এই রাত
সুবহে সাদিক পর্যন্ত শান্তি ও কল্যাণে ভরপুর থাকে। যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াবের
আশায় এই রাতে ইবাদত করে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। এ রাতে ক্ষমা,
হেদায়েত, সুস্থতা ও রিজিকের জন্য দোয়া করা অত্যন্ত উত্তম।রমজানের শেষ দশকের
বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা হয় এবং বিশেষভাবে ইবাদত করা হয়।
তাই এই মহিমান্বিত রাতকে দোয়া, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে
কাটানো প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং লাইলাতুল কদরের
রাত্রিতে আমরা বেশি বেশি দোয়া করব আমল করব যাতে আমাদের সমস্ত গুনাহ মহান আল্লাহ
তাআলা মাফ করে দেন .
লাইলাতুল কদর রাত্রে ফেরেশতাদের আগমন
পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাত্রিতে অগণিত ফেরেশতা পৃথিবীতে নেমে আসেন, কারণ এটি
হাজার মাসের চেয়ে উত্তম এক বরকতময় রাত; এই রাতে ফেরেশতারা রহমত, বরকত ও ক্ষমা
নিয়ে আসেন এবং প্রতিটি ভালো কাজের জন্য আল্লাহর অনুমতিক্রমে পৃথিবীতে আগমন করেন,
যা শান্তি ও কল্যাণের বার্তা বহন করে, বিশেষ করে (জিবরাইল আ.) ও অন্যান্য ফেরেশতা
মুমিনদের কাছে 'সালাম' জানাতে আসেন ও দোয়ায় 'আমিন' বলেন।
শবে কদর বা লাইলাতুল কদর উপলক্ষে ফেরেশতাদের আগমন বিষয়ক কিছু তথ্য নিম্নে আলোচনা
করা হলো: লাইলাতুল কদরের রাতে অসংখ্য ফেরেশতা ও রূহুল কুদুস (জিবরাঈল আঃ)
পৃথিবীতে অবতরণ করেন।তারা আল্লাহর অনুমতিক্রমে প্রতিটি কাজের জন্য পৃথিবীতে আসেন
এবং রহমত ও বরকত বন্টন করেন।পবিত্র এই রজনীতে ফেরেশতারা মুমিনদের ঘরে ঘরে যান এবং
তাদের সালাম জানান (শান্তি বর্ষণ করেন)।তারা বিশ্বাসীদের ইবাদত ও দোয়ায় 'আমিন'
বলেন, যা দোয়া কবুলের একটি বড় লক্ষণ।
এই রাতে ফেরেশতারা মানবজাতির জন্য ক্ষমা
প্রার্থনা করেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করেন।এটি এতটাই বরকতময় রাত যে,
ফেরেশতারা প্রত্যেক মুমিনের জন্য কল্যাণ ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসেন।আল্লাহ্র
শক্তিশালী ফেরেশতা জিবরাঈল (আঃ) এই রাতে বিশেষ করে কুরআন পাঠকারীদের কাছে
আসেন।ফেরেশতারা এই রাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের ভাগ্যলিপি চূড়ান্ত করার কাজেও
জড়িত থাকেন।এই রাতে ফেরেশতাদের পদচারণায় পৃথিবী ভরে ওঠে, যা এক স্বর্গীয়
পরিবেশ তৈরি করে।ফজরের আলো ফোটা পর্যন্ত এই ফেরেশতাদের আগমন ও রহমত নাযিল হতে
থাকে।
আরো পড়ুনঃ শবে বরাতের ফজিলত ও করণীয়
লাইলাতুল কদর গুনাহ মাফের রাত
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন- হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমি একে (কুরআন) এক
বরকতময় রাতে নাজিল করেছি। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ
বিষয় স্থিরকৃত হয়। আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে, আমিই প্রেরণকারী। আপনার
পালনকর্তার পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা দুখান : আয়াত
১-৬)কুরআন নাযিলের কারণে মর্যাদার এ রাতের কথা উল্লেখ করার পর যে মাসে কুরআন
নাযিল হয়েছে সে মাসের কথাও আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে উল্লেখ করেছেন
এভাবে-আল্লাহ তায়ালা বলেন: ‘রমজান মাস! এমন একটি মাস যে মাসে কোরআন নাযিল হয়েছে
মানবের মুক্তির দিশারি ও হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনরূপে। ’ (সুরা-২ আল বাকারা,
আয়াত: ১৮৫)।
সুতরাং লাইলাতুল ক্বদরের রাতে আল্লাহর ওইসব বান্দারা সবচেয়ে বেশি সম্মানিত ও
মর্যাদার অধিকারী হবেন, যাদের সঙ্গে কুরআনের সম্পর্ক বেশি। যিনি কুরআন-সুন্নাহর
আলোকেই নিজের জীবন পরিচালিত করবেন। বাস্তবজীবনে কোরআন-সুন্নাহর আমলে সাজাবেন
জীবন। আর তারাই হবেন সফল।লাইলাতুল কদর হলো রমজানের এক মহিমান্বিত রাত, যা হাজার
মাসের চেয়ে উত্তম, যেখানে আল্লাহ্র অশেষ রহমত ও বরকত বর্ষিত হয় এবং এই রাতে
ইবাদত করলে কোটি গুণ সওয়াব পাওয়া যায়, যার মূল উদ্দেশ্য হলো গুনাহ মাফ ও নৈকট্য
লাভ, তাই এই রাতে নফল নামাজ, দোয়া, কুরআন তেলাওয়াত ও ইতিকাফের মাধ্যমে বান্দারা
আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির জন্য বিশেষ প্রচেষ্টা চালায়।
ভাগ্য নির্ধারণের রাত লাইলাতুল কদর
ভাগ্য নির্ধারণের রাত লাইলাতুল কদর ইসলামের অন্যতম মহিমান্বিত ও বরকতময় রাত।এই
রাতে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দার ভাগ্য, রিজিক ও জীবন-মৃত্যুর ফয়সালা নির্ধারণ
করেন।কুরআনুল কারিম এই পবিত্র রাতেই নাযিল হওয়া শুরু হয়েছিল, যা এর মর্যাদা আরও
বাড়িয়ে দেয়।লাইলাতুল কদরের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম বলে কুরআনে
ঘোষণা করা হয়েছে।এই রাতে ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশে রহমত ও শান্তি নিয়ে
পৃথিবীতে অবতরণ করেন।
পবিত্র লাইলাতুল কদরেবান্দার আন্তরিক তওবা, দোয়া ও ইবাদত
আল্লাহ বিশেষভাবে কবুল করেন এই রাতে। শবে কদরে শবে কদরে রাতভর নামাজ, কুরআন
তিলাওয়াত ও জিকিরে মশগুল থাকা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।লাইলাতুল কদর মানুষের জীবনে
নতুন আশা ও ক্ষমার দ্বার খুলে দেয়।রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে এই
মহিমান্বিত রাত অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। সুতরাং রমজানের শেষ দশকের বিজোড়
রাতগুলোতে এই মহিমান্বিত রাত অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে।
লাইলাতুল কদর নির্ধারণ করা যায় যে নিয়মে
লাইলাতুল কদর নির্দিষ্ট কোন তারিখে নয়, তবে পবিত্র রমজানের শেষের ১০ দিনের
যেকোনো বেজুড় রাত্রিকে বোঝায় । যেমন ২১,২৩,২৫,২৭,২৯ । হাদীস শরীফের ভাষ্য
অনুযায়ী কদরের রাত সুনির্দিষ্ট নয়। তবে রমযানের শেষ দশকে তা হওয়ার সম্ভাবনাই
বেশি। এ হিসেবে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশকে
ইবাদতের মাত্রা ও পরিমাণ বাড়িয়ে দিতেন।আম্মাজান হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা. নবীজীর
শেষ দশকের আমলের বিবরণ দিয়ে বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
অন্য দিনগুলোর তুলনায় রমযানের শেষ দশকে বেশি ইবাদত করতেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস
১১৭৫ হাদীস শরীফে কদর রজনী নির্ধারিত করে দেওয়া হয়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট হাদীসগুলো
সামনে রেখে যা বুঝে আসে, লাইলাতুল কদর লাভের জন্য গোটা রমযান, বিশেষ করে রমযানের
শেষ দশক, আরো বিশেষ করে বললে শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে তা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
তাই শেষ দশকে শবে কদরের অন্বেষণে পূর্ণ মনোযোগী এবং প্রস্তুত থাকা চাই। নবীজী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন তোমরা রমযানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ
কর। সহীহ বুখারী, হাদীস ২০২০ যেহেতু হাদীসে লাইলাতুল কদর নির্ধারিত করে বলা হয়নি
তাই নির্দিষ্ট কোনো রাতে নির্দিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিকতার মাঝে তা বেঁধে ফেলা ঠিক
নয়।আর লাইলাতুল কদরের জন্য হাদীসে নির্দিষ্ট করে কোনো আমলের কথাও উল্লেখ নেই। তাই
বিদআত ও রুসুমাত থেকে দূরে থেকে ব্যক্তিগতভাবে নফল ইবাদতের মাধ্যমে এ রাত যাপন
করাই শ্রেয়।
লাইলাতুল কদরের নামকরণ
লাইলাতুল কদরের নামকরণ এর পেছনে গভীর তাৎপর্য ও অর্থ নিহিত রয়েছে।আরবি শব্দ
“লাইলাত” অর্থ রাত এবং “কদর” অর্থ মর্যাদা, সম্মান ও ভাগ্য নির্ধারণ।এই রাতকে
লাইলাতুল কদর বলা হয় কারণ এর মর্যাদা ও গুরুত্ব অত্যন্ত মহান। পবিত্র শবে কদরের
এই রাতে মানুষের ভাগ্য ও তাকদির নির্ধারণ করা হয় বলে একে কদরের রাত বলা হয়।মহান
আল্লাহ এই রাতে বান্দার আমল ও দোয়ার বিশেষ মূল্য প্রদান করেন।-এই রাতে ইবাদত
করলে অন্য রাতের তুলনায় বহু গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।ফেরেশতারা আল্লাহর
নির্দেশে এই রাতে পৃথিবীতে অবতরণ করেন বলে এর মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।পবিত্র কুরআনুল
কারিম এই রাতের ফজিলত বর্ণনা করে একে সম্মানিত করেছে।লাইলাতুল কদরের নামকরণের
মাধ্যমে এই রাতের গুরুত্ব ও মহিমা মুসলমানদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং
লাইলাতুল কদরের নামই এর অতুলনীয় মর্যাদা ও বরকতের পরিচয় বহন করে।
আরো পড়ুনঃ ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি ২০২৬ কবে
লাইলাতুল কদর রাত্রির আলামত
আপনারা অনেকেই জানতে চান যে লাইলাতুল কদরের রাত্রি চেনার জন্য বিশেষ কোনো আলামত
আছে কিনা অবশ্যই আছে, যেমন রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না।নাতিশীতোষ্ণ হবে।
অর্থাৎ গরম বা শীতের তীব্রতা থাকবে না।মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে।সে রাতে
ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্তিবোধ করবে। কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে আল্লাহ
স্বপ্নে হয়তো তা জানিয়েও দিতে পারেন। পবিত্র ঐ রাতে বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে।সকালে
হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে। যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মত। (সহীহ ইবনু
খুযাইমাহ: ২১৯০; বুখারী: ২০২১; মুসলিম: ৭৬২)।
শেষ কথা লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও গুরুত্ব ২০২৬
আমরা লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও গুরুত্ব ২০২৬ সম্পর্কে এই পোষ্টের মাধ্যমে বিস্তারিত
আলোচনা করেছি, সুতরাং লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সেটা
বলার অপেক্ষা রাখে না । ‘লায়লাতুল ক্বদর’ তথা ক্বদরের রাত একটি মহিমান্বিত রজনী।
এ রাতে সাধ্যমত ইবাদত করা এবং পাপ মোচন করিয়ে নেয়ার যে সুযোগ আল্লাহ তা‘আলা
আমাদেরকে দান করেছেন তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। একজন মুমিন যেভাবে
বছরব্যাপী রামাযানের প্রতীক্ষায় প্রহর গুণতে থাকে তেমনিভাবে রামাযান মাস আগমন
করার পর ক্বদরের রাতের প্রতীক্ষায়ও ব্যাকুল থাকে।
উপরের আলোচনা দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, লায়লাতুল ক্বদর একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত। এ
রাতে বেশী বেশী ইবাদত করা যরূরী। যেহেতু ক্বদরের রাত নির্দিষ্টভাবে জানা যায় না
তাই রামাযানের শেষ দশদিনে বেশী বেশী ইবাদত করতে হবে। তাহ’লেই ক্বদরের ফযীলত পাওয়া
যাবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে লায়লাতুল ক্বদর লাভ করার তাওফীক দান
করুন-আমীন।



ভাল হয়েছে