খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়
খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয় তা আমরা এখন জানবো, প্রকৃতির বিভিন্ন ঔষধি
গাছ থেকে আমরা নানা ধরনের ঔষধি উপকরণ পেয়ে থাকি, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা তৈরিতে সাহায্য করে।
সময় যতই গড়াচ্ছে ততই ভেজাল পণ্যের ব্যবহার এবং ভেজাল পণ্যের চাহিদা
দিন দিন বেড়েই চলেছে, আর এই সময়ের সাথে পাল্লা দিয়েই বিলুপ্ত হতে চলেছে
প্রাকৃতিক উপাদান গুলো, কিন্তু এই প্রাকৃতিক সম্পদের উপকারিতা সম্পর্কে জানলে
আপনারা অভিভূত হয়ে যাবেন। আর এই প্রাকৃতিক উপাদান থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে নিয়মের মধ্য দিয়ে সেবন করলে আমাদের শরীরের রানা রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
পোস্ট সূচিপত্র - নিম পাতার রস খেলে কি হয়
- খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়
- নিম পাতার রস খাওয়ার সহজ উপায় কি
- নিম পাতার রস তৈরি করার নিয়ম
- নিম পাতার রস খাওয়ার উপকারিতা
- ব্রণের প্রদাহ কমাতে নিম পাতার রসের ব্যবহার
- মাথার খুশকি কমাতে অনেক পাতার রসের ব্যবহার
- দাঁত ও মাড়ির পরিচর্যায় নিম পাতার রসের উপকার
- শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিম পাতার ব্যবহার
- চুল ঝরে যাওয়ার সমস্যা কমাতে নিম পাতার রসের ব্যবহার
- নিম পাতার রস সম্পর্কে আমার মতামত-শেষ কথা
-
খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়
আমরা বিভিন্ন কারণে নিম পাতার রস খেতে পারি , নিম পাতার রস খেলে
আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপকার সাধিত হয়। প্রতিদিন খালি পেটে নিমপাতার রস
খেলে পেটের গ্যাস্টিক সমস্যা ভালো হয় এছাড়াও প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিম পাতা
খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে। নিম পাতার রস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে. তাই প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়ার
অভ্যাস করুন।
সকালে খালি পেটে নিমপাতার রস খেলে শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। নিম পাতার রস ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাছের বিরুদ্ধে কাজ করে, শুধু তাই নয় এটি রক্ত পরিশোধন করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আসলে এখন প্রশ্ন হচ্ছে নিম পাতার রস করে সহজ উপায়ে কিভাবে
খাব।
আরো পড়ুন: মধু ও রসুন খাওয়ার নিয়ম
- নিম পাতার রস খাওয়ার সহজ উপায় কি
-
নিম পাতার রস তৈরি করার নিয়ম
আমরা বিভিন্ন কারণে নিম পাতার রস তৈরি করতে পারি , আসলে আমরা নিম পাতার রস
কেন তৈরি করি নিম পাতার রস তৈরি করার প্রধান উদ্দেশ্য হল এই যে নিম পাতার রস তৈরি
করলে সেটি খেতে কোন প্রকার অসুবিধা হয় না, কারণ আমরা সবাই জানি নিম পাতার রস
খেতে অনেক তিতা। নিম পাতার রস তৈরি করার জন্য আমাদের ভালো নিমপাতা জোগাড়
করতে হবে সেগুলো সুন্দরভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে সেগুলো রস করার জন্য
সুন্দরভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে, ঠিক এই ভাবেই আমরা নিম পাতার রস তৈরি করতে
পারি।- নিম পাতার রস খাওয়ার উপকারিতা
সকালে খালি পেটে নিমপাতার রস খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে, কেন আপনি প্রতিদিন
সকালে নিম পাতার রস খাবেন সেটির কারণ হচ্ছে, এটি খাওয়া অনেক সহজ এবং
ভেজালমুক্ত। এছাড়াও প্রতিদিন সকালে নিম পাতার রস খেলে আপনার দাঁত ও দাঁতের মাড়ি
শক্ত মজবুত করে পেটের পাচন প্রক্রিয়া অনেক ভালো থাকে তাই নিম পাতার রস আপনি
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে সেবন করলে আপনার শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকবে এবং
সঠিকভাবে যেকোনো কাজে মনোনিবেশ করতে পারবেন।
-
ব্রণের প্রদাহ কমাতে নিম পাতার রসের ব্যবহার
আমাদের বয়সন্ধিকালে সাধারণত মুখের ব্রণের প্রদাহ দেখা দেয় কিন্তু নিম পাতার
রসের ব্যবহারে এইসব ব্রণ নিরাময়ে নিম পাতার রসের ব্যবহার সর্বজন স্বীকৃত.
ব্রণের প্রদাহ কমাতে আপনি পরিষ্কার কিছু নিমপাতা নিবেন তারপরে সেগুলোকে
সুন্দরভাবে ব্লেন্ড করে তার রস যেখানে ব্রণ উঠেছে ঠিক সেই জায়গাতেই আলতো করে
লাগিয়ে রাখবেন কিছুক্ষণ পর সেটা সুন্দর করে ধুয়ে ফেলবেন এইভাবে কিছুদিন ব্যবহার
করলে দেখবেন আপনার মুখের ব্রণ নিমিষেই হাওয়া হয়ে গেছে।আরো পড়ুন: ত্বকের মেছতা দূর করার কার্যকারী টিপস
- মাথার খুশকি কমাতে অনেক পাতার রসের ব্যবহার
আমরা প্রাকৃতিক উপায়ে নিম পাতার রস ব্যবহার করে মাথার খুশকি কমাতে পারি, মাথার
খুশকি কমাতে আমরা প্রতিনিয়ত কতই না চেষ্টা করে যাচ্ছি কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছে
না, কিন্তু প্রকৃতির এই নির্যাস ব্যবহার করে আপনি আপনার মাথা থেকে চিরতরেই খুশকি
কে বিদায় জানাতে পারেন যেমন প্রথমে আপনি কিছু ভালো নিম পাতার সংগ্রহ করবেন তারপর
সেগুলোকে সুন্দরভাবে পরিষ্কার করে বেটে নিবেন তারপর সেই রস গোসলের আগে মাথায়
লাগাবেন। এভাবে আপনি কয়েকদিন ব্যবহার করলেই আপনার মাথা থেকে চিরতরে খুশকি
বিদায় নিবে।- দাঁত ও মাড়ির পরিচর্যায় নিম পাতার রসের উপকার
"বাংলায় একটা প্রবাদ আছে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বোঝেনা" কথাটা সত্য আসলে আপনি
আপনার দাঁত ও মাড়ির পরিচর্যা যদি না করেন তাহলে খাবারের স্বাদ উপভোগ করা
আপনার দ্বারা সম্ভব না তাই দাঁত ও মাড়ির পরিচর্যা করতে নিমপাতার রসের ব্যবহার
খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাতার রসে থাকা এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান দাঁত ও
মাড়ির ক্ষতিকারক জীবাণু কমাতে সাহায্য করে। মাড়ির প্রদাহ বা ফোলা লালচে
ভাব কমাতে নিম পাতার রস বেশ উপকারী।
- শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিম পাতার ব্যবহার
সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়ার ফলে শরীরের টক্সিন দূর করে প্রতিরোধ
ব্যবস্থাকে আরো সক্রিয় করতে সাহায্য করে। এছাড়াও নিম পাতার রসে আছে এন্টি
ব্যাকটেরিয়াল ও এন টি ভাইরাল গুণ যা শরীরকে সাধারণ সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। নিম
পাতার রস শরীরের রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে যা আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাতে
ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে. তাই প্রকৃতির এই প্রাকৃতিক নির্যাস প্রতিদিন সকালে খালি
পেটে সেবন করুন সুস্থ থাকুন।মেটাবলিজম বা বিপাক ক্রিয়াকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে।শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immune System) বাড়াতে কার্যকর।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। সুতরাংখালি পেটে নিম পাতার রস খেলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়, হজমশক্তি বাড়ে, মেটাবলিজম (বিপাক) উন্নত হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয় এবং ত্বক ও চুলের উপকার হয়; তবে অতিরিক্ত সেবনে পেটের সমস্যা, বমি বমি ভাব বা ডায়রিয়া হতে পারে, তাই পরিমিত পরিমাণে এবং প্রয়োজনে মধু বা গুড় মিশিয়ে খাওয়া উচিত।
- চুল ঝরে যাওয়ার সমস্যা কমাতে নিম পাতার রসের ব্যবহার
চুল ঝরে যাওয়া বা পড়ে যাওয়ার সমস্যা আমাদের অনেকেরই আছে এবং আমরা অনেক প্রসাধনী ব্যবহার করেও আশানুরূপ কোন ফল না পাওয়ায় আমরা নতুন কোন টিপস দেখলে মনে করি "অন্ধের দেশে আয়না বিক্রি করার মত" কিন্তু না নিম পাতার রস স্ক্যাল্পে লাগালে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় যার ফলে চুলের গোড়া মজবুত করতে কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এছাড়াও নিম পাতার রস স্ক্যাল্পের ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস কমিয়ে চুল ঝরার মূল কারণ গুলো প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
নিম পাতার রসে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।নিয়মিত নিম পাতার রস মাথার ত্বকে ব্যবহার করলে খুশকি কমতে সাহায্য করতে পারে।এটি মাথার ত্বকের চুলকানি ও জ্বালাপোড়া কমাতে উপকারী বলে মনে করা হয়।পরিষ্কার স্ক্যাল্প চুলের গোড়া মজবুত রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।নিম পাতার রস চুলের গোড়ায় রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করতে পারে।এর ফলে চুল ভাঙা ও অতিরিক্ত পড়া কিছুটা কমতে পারে।নিমের পুষ্টিগুণ চুলকে স্বাস্থ্যবান ও উজ্জ্বল রাখতে সহায়তা করে।সপ্তাহে এক–দুইবার নিম পাতার রস ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায় বলে অনেকে মনে করেন।তবে অতিরিক্ত চুল পড়লে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
আরো পড়ুন: ফর্সা হওয়ার উপায় জানুন সাতটি ফর্মুলায়
- নিম পাতার রস সম্পর্কে আমার মতামত-শেষ কথা
নিম পাতার রস খাওয়া সম্পর্কে আমি আমার এই পোস্টের বিস্তারিত আলোচনা করেছি,
আপনি কিভাবে নিম পাতার রস করবেন এবং কিভাবে তা নিয়মিত প্রতিদিন সকালে খালি পেটে
খাবেন সেই নির্দেশনা ইতিমধ্যে আপনারা পেয়ে গেছেন। এর সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করার আগে
আপনাকে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত ডাক্তারের কাছ থেকে
জেনে শুনে সবকিছু করতে হবে।
প্রাকৃতিক এই নির্ভেজাল উপাদান সম্পর্কে আমাদের সবাইকেই কিছু না কিছু ছোটখাটো জ্ঞান থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়ম অনুযায়ীএগুলো সঠিকভাবে সেবন করবেন।খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়ার বিষয়টি আমাদের উপমহাদেশে একটি পরিচিত প্রাকৃতিক অভ্যাস। প্রাচীনকাল থেকেই নিমকে ঔষধি গুণে ভরপুর একটি ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে ধরা হয়।সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে সহায়তা করে বলে মনে করা হয়।এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও হজমশক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত নানা উপকারের জন্য আলোচিত।তাই স্বাস্থ্য সচেতন অনেক মানুষই খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখান। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, কথা হবে অন্য কোন টপিক্স নিয়ে অন্য কোন আলোচনায়।



ভাল হয়েছে